খেলা হবে এটা আবার কেমন দিবস

ওপার বাংলা এবং এপার বাংলা দুই বাংলার জনপ্রিয় ডায়লগ "খেলা হবে"। খেলা হবে ডায়লগটি নিয়ে বেশ তর্ক বির্তকও সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন খেলা হবে ডায়লগটি সর্বপ্রথম বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের কোন একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আসো " খেলা হবে "। 


এরপর ভারতের বিজেপির বিভিন্ন নেতাদের মুখে খেলা হবে কথা শুনতে পাওয়া যায়। তবে খেলা হবে ডায়লগটি বাংলাদেশে যতোটা প্রচার না হয়েছে তার থেকে বেশি প্রচার হয়েছে ভারতে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের নির্বাচনে খেলা হবে ডায়লগটি সবার মুখে মুখে শোনা গেছে। সোজা ভাষায় বলতে গেলে বর্তমান সময়েও ভারতের কোন রাজনৈতিক সভা সেমিনারে খেলা হবে ডায়লগটি এখনও শোনা যাচ্ছে। তবে এরেই মধ্যে নানা জল্পনা কল্পনার মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে " খেলা হবে " দিবস। 


সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম আনন্দ বাজার পত্রিকাকে জানান- এখন থেকে প্রতি বছরে ১৬ আগষ্ট "খেলা হবে" দিবস হিসেবে পালিত হবে। ইতিমধ্যে পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রীর এমন বার্তায় অনেকে সমালোচনাও করেছেন। দেশটির সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খেলা হবে দিবসটি পালনের মাধ্যমে বৃহত্তর অংশে পৌঁছে দিতে চায় রাজ্য সরকার। 


আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানা যায়- পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন- ১৬ আগষ্ট " খেলা হবে " দিবসে সকল  ক্রিয়া প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিনা মূল্যে বল বিতরণ করা হবে।


এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার সমালোচনা করে  রাজ্য সভার বিজেপি সাংসদ স্বপন দাসগুপ্ত এক টুইটার বার্তায় বলেছেন-১৯৪৬ সালের ১৬ আগষ্ট মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস ঘোষণা করে "গ্রেট ক্যালকাটা " কিলিং শুরু করেছিল। তাই আজ পশ্চিম বঙ্গের সরকার বিরোধীদের উপরে  সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন স্বপন দাসগুপ্ত। 


অপরদিকে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাসগুপ্তের করা টুইটের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন-স্বপনবাবুর সঙ্গে বাংলার কোন সম্পর্ক নেই বলে উনি নিজেই জানেন না ১৬ই আগস্ট  ক্রিড়াপ্রেমী দিবস। তবে এর আগে দিবসটির কোন সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। আজ পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী সেটা স্বীকৃতি দিলেন। কুণাল ঘোষ আরো বলেন বিকৃত মনষ্ক হলে সব বিষয়কে মুসলিম - হিন্দু দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে দেখা যায়। 


খেলা হবে দিবসটি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমিকরা জানিয়েছেন,, ১৬ই আগষ্টে খেলা হবে দিবসটি সবাইকে পালন করা উচিত। কেননা এতে করে তরুণ ও যুব সমাজ খেলা ধূলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন