কোভিড-১৯ করোনা কালীন সময়ে বাংলাদেশের অসহায় গরীব ও প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে আবারও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অনুদান দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২ মে রবিবার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুদানের শুভ উদ্বোধন করেন। তবে এ বছরে ২০২১ সালে  ৩৬ লাখ ৫০ হাজার অসহায় প্রান্তিক পরিবারের জন্য মোট ৯ শ ৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রী  তার নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়েছেন। 


এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে ২৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। তাই তো বরাবরের মত আবারো ২৫০০ টাকা করে পাবেন প্রতিটি প্রান্তিক পরিবার। প্রধান মন্ত্রী জানিয়েছেন করোনা মহামারীতে প্রান্তিক, অসহায় গরীব মানুষের জন্য এই অনুদান। তিনি আরো জানিয়েছেন করোনা মহামারীর সময় গরীব, প্রান্তিক পরিবারের মানুষগুলো স্বাভাবিক ভাবে কাজ কর্ম করতে পারছেন না, তাই ঐ সকল পরিবারগুলো চিন্হিত করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫০০ টাকা দেয়া হবে। এবং এই টাকা গুলো প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুষ্ঠ বন্টনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই সুন্দর কার্যক্রমের জন্য  অভিনন্দন জানাই। তবে এবারের সরকারি অনুদানের ২৫০০ টাকা যেন সঠিকভাবে প্রান্তিক অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছায় আমরা এটাই আশা করছি। 


এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকার অনুদানের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝেও শোনা যাচ্ছে । তবে দেখার বিষয় হল যদি ২০২০ সালের ন্যায় এ বছরেও যেন অনুদানের টাকা মধ্যবিত্ত, ধনী, প্রভাবশালী ও দূর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বাদের পকেটে যেন না ঢুকে। ২০২০ সালে দেয়া সরকারি অনুদানের ২৫০০ টাকার তালিকায় বেশ গোঁজামিল ও অনিয়ম ছিল। সেই তালিকায় দেখা গিয়েছিল ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সকল আত্নীয় স্বজনের নাম।


 এমন কি ভুয়া নাম দিয়ে একই মোবাইল নাম্বার ব্যাবহার হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল অধিকাংশ প্রভাবশালী ও ধনী ব্যাক্তিদের নাম তালিকায় পাওয়া গেছে। এমনি তারাও সরকারি অনুদানের ২৫০০ টাকা পেয়েছিলেন। 


এখন ২০২১ সালে ২ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তহবিল থেকে আবারো ২৫০০ টাকা প্রতিটি অসহায় পরিবারকে দেয়া হবে। বিষয় হলো তাহলে কি আগের অর্থাৎ ২০২০ সালের তালিকা অনুযায়ী অনুদানের টাকা প্রধান করা হবে নাকি নতুন করে তালিকা করা হবে। যদি পূর্বের তালিকা দিয়ে অনুদান প্রদান করা হয়, তাহলে আবারও অনেক প্রান্তিক পরিবারগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৫০০ টাকা অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে। 


আমরা অনুদান কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবো,, দেশের প্রতিটি এলাকায়  শিক্ষকদের মাধ্যমে অসহায় গরীব প্রান্তিক পরিবারগুলোকে তালিকা ভূক্ত করা। এরপর প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সেই তালিকা গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে এই কাজের জন্য গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা। তা না হলে অতীতে ২৫০০ টাকা অনুদানে যে পরিমাণে অনিয়ম হয়েছিল ঠিক একইভাবে এবারেও ঘটতে পারে দূর্নীতির ঘটনা। 


সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে বেশির ভাগই জড়িত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার। গত বছর দেশের জাতীয় মিডিয়া গুলো যখন সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের খবর প্রকাশ করতে শুরু করলেন ঠিক তখনি বেরিয়ে এসেছিল থলের বেড়াল। আমরা আজ পুরোনো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার একটাই উদ্দেশ্য যাতে করে পুনরায় একই ভূল না হয়। 


আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য হল  ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে এমন অনেক দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান ও মেম্বার আছেন, যারা সরকারি অনুদানের কথা বলে তালিকা ভুক্ত পরিবার গুলোর কাছ থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতি বছরে লক্ষ লক্ষ  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যদিও বা মাঝে মধ্যে চাল চোর, তেল চোরের খবর মিডিয়ায় দেখা যা। পরবর্তীতে অসহায় প্রান্তিক পরিবারের টাকা আত্মসাৎ করার কারনে কি বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেটা বেশি চোখে পরে নেই। 


আমরা মনে করি সরকারি সকল সহায়তা ও অনুদানের বিষয়টি সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কতৃক প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে ঘোষণা দেয়া। এছাড়াও  সরকারি কোন ভাতা, বা অনুদানের জন্য কাউকে যেন টাকা না দেন সে বিষয়ে অবগতি করা। আর যদি এমন প্রমান পাওয়া যায় যদি কোন মেম্বার বা চেয়ারম্যান সরকারি অনুদান বা ভাতা দেয়ার নাম করে টাকা নেন তাহলে ঐ মেম্বার বা চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার সহ তার  সকল সম্পদ সরকারি ভাবে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা। 


শুধু এখানেই শেষ নয় সরকারি যে কোন অনুদান কিংবা ভাতা সেগুলো যেন নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ জনগণ পায় এজন্য প্রতিটি এলাকার সচেতন সুশীল সমাজকে সজাগ থাকতে হবে। 



আরো পড়ুন........


দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চেয়ারম্যান কতৃক ভিজিএফের চাল চুরির অভিযোগ। 


দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসমান জামিনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভাদুরিয়া বাজারে মানববন্ধনের করেন সেখানকার জনসাধারণ। তালিকাভুক্ত অনেক ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ হাতে চাল সংগ্রহের টোকন নিয়ে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। ঐ সময় ভিজিএফের চাল না পাওয়া সাধারণ জনগণ ইউপি চেয়ারম্যান আসমান জামিনের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ অানেন। 


জানা যায় গত বছর ২০২০ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় ৬ নং ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ১৫৩৫ জনের নামের তালিকায় মোট ১৫.৩৫ টন চাল বরাদ্দ আসে। কিন্তু অনেকের নাম তালিকায় থাকার পরেও চাল পাননি অনেক পরিবার। 


ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদশ্য হারিনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন - চেয়ারম্যান আসমান জামিন তিনি আমাদের কোন কথাই শুনেন না। এছাড়াও ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যম কে জানান চেয়ারম্যান আসমান জামিন বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা সহ যে কোন ভাতা নিতে গেলে তিনি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। 

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন