ভয়ংকর নারী

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ৮ হিংস্র নারীর তালিকা 


 নারী মানেই যে কোমল হৃদয়ের অধিকার অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে। কিন্তু আজ আমরা আপনাদের সামনে এমন কিছু নারীর ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরবো এটা জানার পর নারী সম্পর্কে আপনার ধ্যান-ধারণা পুরোটা উল্টে যাবে। তার মানে এই না যে পৃথিবীর সকল নারী খারাপ। তবে এটাও সত্যি কথা যে, পুরুষের তুলনা নারীরা অনেক গুণে বেশি মায়া-মমতাশীল হয়ে থাকে। যাই হোক, চলুন জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ০০ নারীর ভয়ংকর কিছু তথ্য। 


এক.

দারিয়া সাল্টিকোভাঃ ১৭৩০ সালে রাশিয়ায় একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন দারিয়া সাল্টিকোভা। তিনি নারী হিসেবে বিকৃত মস্তিষ্কের ছিলেন। এই বিকৃত মনা নারী একজন রানীও ছিলেন আর তার ভয়ে পুরো মস্কোবাসী থরথর করতো। তিনি নিজেকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে বিবেচিত করতেন। আর রানী হওয়ার সুবাদে নিজের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করা তার নেশা ছিল। একটু সামান্য কিছুতেই তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন। দারিয়া সাল্টিকোভা প্রায় শতাধিক দাস দাসীকে হত্যা করেছেন। এজন্য তাকে ব্লাড কাউন্টেসের সঙ্গে তুলনা করা হতো। 


তিনি মানুষকে যখন হত্যা করতেন, তখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতেন আর সেই সময় দারিয়া সাল্টিকোভা আনন্দ উপভোগ করতেন। যখন তখন সে দাস দাসীদের ধরে এনে গরম তেল বা পানিতে ফেলে দিয়ে আনন্দ উল্লাস উপভোগ করতেন।  এই নারী এতোটাই ভয়ংকর ছিলেন যে - তার কাছ থেকে দুধের শিশু পর্যন্ত রেহাই পেতো না। সাল্টিকোভার জীবনের শুরুতে তিনি একজন সহজ সরল নারী ছিলেন। এরপর তার প্রেমিকের সঙ্গে কোন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়ে যায়। আর এরপর থেকে সে বিকৃত মস্তিষ্কের নারীর রুপ পায়। অবশেষে এই নারী ১৮০১ সালে মৃত্যু বরণ করেন। 


দুই.

এলিজাবেথ বাথোরিঃ ১৫৬০ সালের ৭ আগষ্ট হাঙ্গেরিতে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল জর্জ বিটোরি। এই কুখ্যাত নারী প্রায় ১৩৮ টি খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য মানুষ কে হত্যা করেছেন। যার কোন সঠিক হিসেব পাওয়া যায় নেই। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেও সে একজন সিরিয়াল কিলার হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং সবচেয়ে জঘন্য নারীদের তালিকায় নাম আসে তার। ১৫৭৫ সালের ৮ মে ফ্রান্স নোডিজডের সঙ্গে এলিজাবেথ বাথোরির বিয়ে হয়। এরপর ১৫৭৮ সালে তার স্বামী ফ্রান্স নোডিজেড হাঙ্গেরির সেনাপতি হিসেবে যোগদান করেন। 


বিভিন্ন সময়ে স্বামীর অনুপস্থিতিতে ব্যাবসা ও শাসন কাজ পরিচালনা করতেন এলিজাবেথ। আর ঐ সময়ে চড়া বেতন দিয়ে কুমারী মেয়েদেরকে গৃহকর্মী হিসেবে চাকরি দিতেন তিনি। এই ভয়ংকর নারী প্রায় ৬৪০ জনেরও বেশী কুমারী মেয়েদেরকে হত্যা করেছেন। তার ওখানে যেসকল কুমারী মেয়ে কাজে যেত সে নাকি আর ফিরে আসতো না। এমনকি কুমারী মেয়েদেরকে জবাই করে রক্ত দিয়ে গোসল করতো এলিজাবেথ। এ জন্য এলিজাবেথকে রক্ত পিপাসু পিশাচীনি বলা হতো। 


তিন.

ক্যাথরিন নাইটঃ ১৯৫৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন ক্যাথরিন নাইট। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম ও ভয়ংকর নারী হিসেবে তাকে বিবেচিত করা হয়। ক্যাথরিনের বাবা একজন মদ্যপ নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তার বাবা প্রায় সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার মাকে জোরপূর্বক  দিনে আট দশ বার ধর্ষণ করতেন। বাবার এমন জঘন্য কর্মকান্ডের পথে ধরে এগিয়েছেন ক্যাথরিন। ক্যাথরিনের এই হিংস্রতা প্রকাশ পেয়েছিল তিনি তার স্বামীর দাঁত উপরে ফেলেছিলেন। এরপর একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। 


আবারও বিয়ে করেন ক্যাথরিন। এবার ক্যাথরিন সেখানে তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা হলে তার দ্বিতীয় স্বামীর পোষা কুকুরের জ্বিহ্বা কেটে ফেলেন এবং চোখ তুলে ফেলেন। দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে থাকাকালীন সময়ে চালর্স প্রাইস নামের এক ধনাঢ্য ব্যাক্তির সাথে পরিচয় হয় তার। চালর্স প্রাইস ক্যাথরিনের অপকর্ম ও হিংস্রতার সকল বিষয় আগে থেকেই জানতো। কিছু দিন যেতে না যেতে আবারো প্রাইসের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন ক্যাথরিন। অবশেষে ভয়ংকর হিংস্র রুপী ক্যাথরিন প্রাইসকে কয়েক ডজন ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। শুধু কি তাই - প্রাইসকে হত্যা করে শরীর থেকে চামড়া দেহ থেকে আলাদা করে শোয়ার ঘরের দরজার পিছনে ঝুলিয়ে রাখেন। এমনকি প্রাইসকে হত্যার পর তার দেহ থেকে মাথা কেটে নিয়ে মগজ দিয়ে তার বাচ্চাদের জন্য স্যুপ তৈরি করেন। কিন্তু বাচ্চারা সে সময় বাসায় ছিলেন না। এদিকে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাচ্চারা বাসায় আসার আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাইসের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেন। এইসব হিংস্র কর্মকান্ডের জন্য তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। 


চার.

ইলসে কোচঃ পৃথিবীর কয়েকজন ভয়ংকর ও হিংস্র নারীদের তালিকার প্রথম সারিতে উঠে আসে ইলসে কোচের নাম। ১৯০৬ সালে জার্মানীর বুচেনউডের একটি শ্রমিক কারখানায় জন্ম গ্রহণ করেন ইলসে কোচ। তার স্বামী বুচেনউড কনস্ট্রাকশন কমান্ডেন্ট কার্ল ছিলেন। এছাড়াও ইলসে কোচ নিজও একজন সুপারভাইজার ছিলেন। আর সেই সুবাদে ইলসে কোচ বন্দীদেরকে কে ধরে এনে তাদের শরীরে নানান রকম ট্যাটু আঁকত। এরপর যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকত তাদেরকে ধরে এনে জবাই করে ট্যাটু করা স্থানগুলোর চামড়া ছিলিয়ে সংরক্ষণ করতো। পরবর্তী ঐ চামড়া দিয়ে বালিশের কভার, সাইট ল্যাম্প ও কুশনের কভার তৈরি করতো। ১৯৪৩ সালে তাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ কিন্তু সেই সময়ে পুলিশের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেন। 


তার ঠিক দুই বছর পর ইলসে কোচ আমিরিকান সেনাবাহিনীর হাতে আবারো গ্রেফতার হন। তারপর একের পর এক অপকর্ম ও হিংস্রতার তথ্য প্রমাণ বেরিয়ে আসে। আর এজন্য তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে অবাক করা তথ্য হল ইলসে কোচ ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর কারাগারে থাকা অবস্থায়  ১৯৬৭ সালে  তিনি নিজে নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। 


পাঁচ.

রোজমেরি পাওলিন রোজ ওয়েষ্টঃ এই কুখ্যাত নারী একজন পেশাদারি সিরিয়াল কিলার ছিলেন। তিনি ১৯৫৩ সালে বৃটিশে জন্ম গ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল রোজ। রোজের বয়স যখন ১৫ বছর ছিল তখন রোজের বাবা প্রতিনিয়ত রোজের উপর যৌন নির্যাতন চালাতেন। তখন থেকে রোজ বিকৃত মস্তিষ্ক ও হিংস্র হয়ে উঠেন। বিয়ের পরও রোজের হিংস্রতা আরো বেড়ে যায়। নিজের সন্তানরাও তার হিংস্রতা থেকে পরিত্রাণ পায় নেই।


 রোজের ভয়ংকর কর্মকান্ডের জন্য তাদের ব্রিটেনের বাড়িটিকে হাউজ অব হরর হিসেবে পরিচিতি পায়। রোজ মেরী পাওলিন রাতের অন্ধকারে শিকারের জন্য বের হতো। তার শিকারে শিকারী হল সুন্দর স্বাস্থ্যবান ছেলেরা। দেখতে সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী ছেলেদেরকে ধরে নিয়ে আসতো। এরপর তাকে যৌন নিপিড়ন করে হত্যা করতো। রোজের হিংস্রতা কাজে সহযোগিতা করতো তার স্বামী। অনেকের ধারণা রোজ ও স্বামী উভয়ই মানষিক বিকারগস্ত ছিলেন। তথ্য সূত্রে জানা যায়-রোজমেরী পাওলিন প্রায় ১২ টির বেশি খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 


ছয়.

ফুলন দেবীঃ ১৯৬৩ সালে ভারতে জন্ম গ্রহণ করেন  তিনি। পৃথিবীতে তাকে অনেকে দস্যু রানী হিসেবে চিনেন। ফুলন দেবীর বয়স যখন এগারো বছর তখন তার বিয়ে হয় বাবার বয়সী এক ব্যাক্তির সঙ্গে। দারিদ্র্য ও সামাজিক কারণে জীবনের শুরু থেকে না লাঞ্চনা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ফুলন দেবী। ফুলনের এলাকায় ঠাকুর পরিবারের অনেক জমিদার ছিল। গরীবের উপর নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে কষ্টের ফসল সব নিয়ে যেতো জমিদাররা।

ফুলন দেবী এমন অন্যায়কে কোন ভাবেই মেনে নিতেন না। তিনি অন্যায় ও জুলুমকারীদের বিরুদ্ধে  প্রতিবাদ করতেন।


 এমনকি দখলকারী নেতা মায়াদীনের বিরুদ্ধে আদালতে গরীবের উপর নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে জমি দখলের অভিযোগ জানিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আশেপাশের সকল ঠাকুর  জমিদারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। এরপর ফুলন দেবী কে ঠাকুর ও তাদের লোকজনরা তুলে নিয়ে যান বেমাই নামের এক গ্রামে। সেখানে নিয়ে প্রতিরাতে তাকে গণধর্ষণ করা হতো। ফুলনের উপর এমন ভাবে যৌন নির্যাতন চালাতেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। 


প্রতি রাতে ফুলনকে ধর্ষণের সময় যতক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞান হারিয়ে না ফেলতো ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে গণধর্ষণ করা হতো। এভাবে ১৬ দিন পর তাকে গণধর্ষণ করলে ফুলন জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে ঠাকুর ও তাদের লোকজনরা ফুলনকে মৃত ভেবে বাহিরে ফেলে দিয়ে আসে। সেখান থেকে ফুলন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এবং পালিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে আরেক দস্যু নেতা বাবুর  কুনজরে পরেন। বাবু ফুলনের উপর ঝাপিয়ে পড়তে চাইলে সেখানকার আরেক দস্যু ফুলন কে রক্ষা করে দস্যু নেতা বাবুকে মেরে ফেলেন।


 অবশেষে বিক্রম নামের ঐ যুবকের সঙ্গে ফুলন দেবীর বিয়ে হয়। স্বামীর ঘরে থেকে রাইফেল চালানো শিখেন তিনি। কিছু দিন পর তিনি নিজই একটি দস্যু বাহিনী গড়ে তোলেন। যার নেতৃত্ব দিতেন ফুলন দেবী নিজেই। বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায় ফুলন দস্যু রানী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর প্রথমে তিনি তার প্রথম স্বামীর এলাকায় হামলা চালান এবং সেই হামলায় তার স্বামীকে তিনি নিজ হাতে খুন করেন। আর এর পর থেকে পৃথিবীর কয়েকজন ভয়ংকর ও হিংস্র  নারীদের তালিকা নাম আসে ফুলন দেবী। অনেকে মনে করতেন এই তালিকায় ফুলনের নাম টি না আসলে পারতো। 


সাত.

অ্যামেলিয়া ডাইয়েরঃ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন বৃটেনে। শিশু হত্যার মত জঘন্য কাজ করতেন এই সিরিয়াল খুনি। আ্যামেলিয়া ডাইয়ের পেশায় একজন নার্স ছিলেন আর সেই সুবাদে তিনি প্রতিদিন হাতের কাছে অনেক শিশু পেতেন। তারপর সুযোগ বুঝে শিশুকে হত্যা করতো। জানা যায় প্রায় ৪০০ টি শিশুকে অ্যামেলিয়া হত্যা করেছেন। অবশেষে ১৮৯৬ সালে শতাধিক শিশু হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদন্ড দেয়া হয়। 


আট.

গেসচে গটফ্রাইডঃ এই সিরিয়াল কিলার খুনি জার্মানিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তবে তিনি সিরিয়াল খুনি হলেও খুনের ধরনটা একটু ভিন্ন। গেসচে গটফ্রাইড পেশায় একজন সেবিকা বা নার্স ছিলেন। তার সেবা যত্ন পেয়ে যেসকল রোগী সুস্থ হয়ে উঠতো, পরে তাদের খাবারের মধ্যে বিষ দিয়ে তাদেরকে মেরে ফেলতো। তার এই ভয়ংকর হিংস্রতার হাত থেকে রেহাই পায়নি পরিবারের লোকজনরা। এই জঘন্য নারী খাবারের মধ্যে বিষয় প্রয়োগ করে তার নিজের সন্তান, বাবা মা, দুই স্বামী এবং দুই বন্ধুকে মেরে ফেলেন। অবশেষে ১৮৩১ সালে গেসচে গটফ্রাইড কে প্রকাশ্যে ফাঁসি I দেয় আদালত। 


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন