বাংলাদেশের ৪ টি ভয়ংকর ও অদ্ভুত স্হান-Most dangerous 4 place in Bangladesh.    

 আমাদের পৃথিবীতে রহস্যময় ও অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যায় যার বৈজ্ঞানিক ভাবে কোন ব্যাখা পাওয়া যায় না। প্রাচীন কাল আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে অনেক  অদ্ভুত ও আজব ঘটনা ঘটেছে, যার কোন আসল কারণ জানা যায় নেই। আর ঐ সকল ঘটনা পৃথিবীতে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ঠিক আমাদের বাংলাদেশেও এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যার বৈজ্ঞানিক ভাবে কোন কারণ জানা যায় নেই। আজ আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কিছু অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনা। 


এক.

চিকনকালা গ্রামঃ বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি গ্রামের নাম চিকনকালা। এই গ্রামটিতে অধিকাংশই আধিবাসীদের মুরং সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করেন। গ্রামটি দূর্গম এলাকার অনেক উঁচুতে অবস্থান, সহজ ভাবে বলতে গেলে চিকনকালা গ্রামটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট ওপরে অবস্থিত।  তাছাড়া এই গ্রামের অধিবাসী মুরংরা খুবই সৌখিন প্রকৃতির। ছোট্ট এই চিকনকালার অপরুপ সৌন্দর্য দেখে মনে হবে আপনি পৃথিবী থেকে অন্য গ্রহে চলে এসেছেন। 


তবে অবাক করার বিষয় হল এই গ্রামের বনের মধ্যে বিকট অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসা। এখানকার অাধিবাসীরা মনে করেন এই শব্দ টা শয়তান বা পিশাচের। প্রতি বছরে বনের ভেতরে থেকে হঠাৎ এই অদ্ভুত আওয়াজটি ভেসে আসে। কেউ কেউ মনে করেন শয়তানের যখন ঘুম ভেঙে যায় তখন নাকি এই আওয়াজ শোনা যায়। শয়তানের অদ্ভুত এই আওয়াজ ছেলে, বুড়ো শিশু সবাই ভয়ে আতংকিত হয়ে পরে। 


আরো রহস্যময় তথ্য হল যখন এই অদ্ভুত আওয়াজটি বনের মধ্যে  শুরু হয় তখন বনের ভেতরে থাকা মানুষজন ভয়ে তারাহুরো করে বাহিরে চলে আসেন। আবার অনেকে বনের মধ্যে আটকা পড়ে যান। অনেকে ধারণা করেন বনের মধ্যে আওয়াজটা শুরু পর যারা বন থেকে বেরিয়ে আসতে পিছনে পরে যায়, তারা নাকি আর ফিরে আসেন নি। তবে আজ পর্যন্ত এই আওয়াজটার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখা পাওয়া যায় নেই। 


দুই.

বগালেকঃ বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্হানের নাম বগালেক। সৌন্দর্যময় এই হ্রদটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট উপরে এবং হ্রদটির আয়তন ১৫ একর। অনেকে আবার এই হ্রদটির নামকরণ নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেখানকার বসরত ম্রো, বম, ও ত্রিপুরা প্রভৃতি নৃগোষ্ঠির লোকজন। তারা বলেন বম ভাষায় বগা মানে হচ্ছে ড্রাগন। 


অনেকের ধারণা প্রাচীনকালে এখানে একটি চোঙ্গা আকৃতির পাহাড় ছিল। পাহাড়টির চারপাশে ঘন বন জঙ্গলে অরণ্য ছিল। তখনকার সময়ে সেখানে বসবাসরত ছোট শিশু ও গরু ছাগল পাহাড়ে গেলে নাকি আর ফিরে আসতো না। পাহাড়ের এমন অদ্ভুত রহস্য বেশ কিছু বছর চলতে থাকলে স্হানীয় এলাকাবাসীরা অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন সাহসী যুবক পাহাড়ের উপরে উঠেন। এরপর তারা পাহাড়ের বিশাল গর্তে একটি ড্রাগন দেখতে পান। পরে ঐ যুবকরা সকলে মিলে ড্রাগনটিকে মেরে ফেলন। তবে সবচেয়ে আরো ভয়ংকর ব্যাপার হল ড্রাগনটি মেরে ফেলার পর একটি গর্ত থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হয়ে প্বার্শবর্তী কয়েকটি গ্রাম পুরে যায় এবং চোখের পলকেই নাকি এই সৌন্দর্যময় হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে। 


তিন.

বরিশাল গানসঃ অনেক আবার এটাকে গানস অব বরিশাল বলে থাকেন। বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বরিশাল অবস্হিত। ১৮৭০ সালের দিকের ঘটনা। প্রায় সময় সেখানকার এলাকাগুলোতে অদ্ভুত ও বিকট শব্দ শোনা যেত। সাগরের ঢেউয়ের শব্দের চেয়ে এবং কামান দাগানোর চেয়ে অনেক গুণ জোরে এই অদ্ভুত শব্দটি শোনা যেতে। তৎকালীন বৃটিশদের ধারণা ছিল এগুলো জলদস্যুর কামান দাগানোর শব্দ। পরবর্তীতে বৃটিশরা অনুসন্ধান চালিয়ে কোন তথ্য আবিষ্কার করতে পারেননি। 


অনেকে আবার এই শব্দটিকে ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত ও সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ বলে ধারণা করতেন। তবে যাই হোক না কেন এই শব্দটি কিসের শব্দ তা জানা যায় নেই। তৎকালীন সময়ে কলকাতার একটি অনুসন্ধান টিম জানান- এরকম শব্দ বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও আমাদের বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী জেলাতে এই অদ্ভুত শব্দটি শোনা যেতো বলে জানা গেছে। তবে আরো অবাক করা বিষয় হল ১৯৫০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের কোন জায়গায় আর এই শব্দটি শোনা যায়নি। 


চার.

লালবাগ কেল্লার সুরঙ্গঃ  আমাদের দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন এলাকা গুলোর নামের তালিকা প্রথমে চল আসে লালবাগ কেল্লার নাম। সেই ছোটবেলা থেকে আমরা বিভিন্ন বই পুস্তকে লালবাগ কেলার ইতিহাস শুনেছি কিন্তু অবাক করা বিষয় হল এই কেল্লাটির এমন কিছু ভয়ংকর তথ্য রয়েছে যা আগে কখনো শুনেন নি। চলুন জেনে নেয়া যাক কি সেই ভয়ংকর তথ্য। 


অনেকের হয়তো জানা আছে লালবাগ কেল্লাটির ভিতরে অনেকগুলো সুরঙ্গ আছে। এই সুরঙ্গ গুলোর তৈরি করেছিলেন তৎকালীন জমিদার রা। কোন সমষ্যা হলে জমিদাররা নাকি এই সুরঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যেতেন। তবে অবাক করার বিষয় হল এই সুরঙ্গ গুলোর মধ্যে এমন একটি সুরঙ্গ রয়েছে যেটাতে কেউ ঢুকলে সে নাকি আর ফিরে আসে না। শুনতে অনেকটা হরর গল্পের মত। 


শোনা যায় এই সুরঙ্গটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর জন্য দুটি কুকুরকে মোটা লোহার চেইন দিয়ে বেধে সুরঙ্গের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয় কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো শিকল ফেরত আসলে কুকুর দুটির আর ফেরত আসেনি। কেউ কেউ  মনে করেন এই সুরঙ্গটির মধ্যে এমন কিছু গ্যাস আছে যা প্রানীর মাংস ঝলসে দেয়। আবার কেউ কেউ ধারনা করেন সুরঙ্গটির মধ্যে হয়তো এমন কিছু শক্তি আছে যার কারণে কোন প্রানী গেলে তা আর ফিরে আসে না। 


১৬৭৮ সালে সুবেদার আজম শাহ লালবাগ কেল্লার কাজ শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট কোন ভবন ছিল না। তাই সুবেদাররা যেন সেখানে সাময়িক ভাবে বসবাস করতে পারেন এ জন্য লালবাগ কেল্লা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন সুবেদার আজম শাহ। সুবেদার আজম কেল্লাটি নির্মাণের জন্য অত্যান্ত জঠিল ভাবে একটি নকশা অনুসরণ করেন। এর আগে ঢাকায় যত সুবেদার এসেছিলেন তারা কেউ স্বল্প সময়ের জন্য কেল্লা তৈরিতে রাজি ছিলেন। 


একমাত্র সুবেদার আজম আগ্রহ দেখিয়ে লালবাগ কেল্লা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। কেল্লাটির কাজ চলাকালীন সময়ে সম্রাট আওরঙ্গজেব সুবেদার আজম শাহকে দিল্লি ফেরত  পাঠালে কেল্লার কাজ অসমাপ্ত রয়ে যায়। এরপর  সুবেদার হিসেবে লালবাগ আসেন শায়েস্তা খাঁ। সুবেদার আজম শাহ লালবাগ কেল্লার কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য শায়েস্তা খাঁনে অনুরোধ করেন। এরপর শায়েস্তা খাঁ ১৬৮৪ সালে কেল্লাটির কাজ শুরু করলে তার মেয়ে পরি বিবি হঠাৎ মারা যান  এবং আবারো কেল্লার কাজ বন্ধ করে দেন শায়েস্তা খাঁ।  প্রথম দিকে লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ। 


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন