হাতিশুঁড়া গাছ

অনেক রোগের মহৌষধ হল হাতিশুঁড়া গাছ-জেনে নিন কিভাবে ব্যাবহার করবেন। 


আমাদের মানবদেহের  রোগ ব্যাধি প্রতিরোধে গাছ গাছড়ার ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। মানব সভ্যতা সামাজের এসময় থেকে বহু যুগ যুগ আগে চিকিৎসা বিজ্ঞান এতোটা উন্নত ছিল না। তাই আদিকালের মানব সভ্যতায় নানান রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ঔষধী গাছ বা উদ্ভিদের ব্যবহার ছিল একমাত্র ভরসা। 


আজ আমরা আপনাদের সামনে এমনকি একটি গাছের নাম বলবো যার উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি চমকে যাবেন। গাছটির নাম হল "হাতিশুঁড়া "। আমাদের দেশের আনাচকানাচে, ঝোপঝাড়, ও রাস্তার পাশে  এই গাছটির দেখা মিলে। হাতিশুঁড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হল Heliotropium indicum. গাছটি বছরের প্রায় সময়ে দেখা যায়। আবার ইংরেজিতে হাতিশুঁড়া গাছকে  Indian Heliotrope বলা হয়ে থাকে। অনেকে আবার স্হান ভেদে হাতিশুঁড়া গাছকে, হাতিশুন্ডি, হস্তিশুন্ডি, হাতিশুঁড়ি, শ্রীহস্তনী ও মহাশুন্ডী নামে ডাকা হয়। 


বর্ষাকালে তুলনামূলক ভাবে হাতিশুঁড়া গাছ বেশি পাওয়া যায়। গাছটির ডগায় হাতির শুঁড়ের মত লম্বা ফুল হয়। একটি গাছে কমপক্ষে ৩/৪ টি ফুল হয়ে থাকে। ফুল গুলো লম্বা ও সাদা হয়ে থাকে এবং কান্ড ফাঁপা ও নরম হয়। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক হাতিশুঁড়া গাছের প্রধান প্রধান উপকারিতা। 


এক.

আঘাত জনিত স্হানে ব্যবহারঃ আমরা প্রায় সময় নানা রকম কাজ কর্ম করতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকি এমনকি আঘাতের জায়গা অনেক ব্যাথার সৃষ্টি হয়ে ফুলে ফেঁপে যায়। ঠিক ঐ সময়ে কিছু হাতিশুঁড়া গাছের পাতা বেঁটে হালকা গরম করে আঘাত ও ফুলা স্হানে লাগিয়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যাথা ও ফুলানো সেরে যায়। 


দুই.

চোখের সমস্যায় ব্যবহারঃ প্রায় সময় হঠাৎ করে আমাদের অনেকের চোখ টকটকে লাল হয়ে যায়। মনে হয় চোখের মধ্যে কোন ময়লা জাতীয় কিছু ঢুকেছে। ঠিক ঐ সময়ে হাতিশুঁড়ার পাতার রস করে চোখের মধ্যে দিলে বেশ কার্যকরীতা পাওয়া যায়। 


তিন.

দেহের ছত্রাক জনিত স্হানে ব্যবহারঃ অনেকের শরীরে ছত্রাক জনিত সমষ্যার কারণে দেহের বিভিন্ন অংশে লাল চাকা চাকা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাতিশুঁড়া গাছের পাতা বেঁটে রস লাগালে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়। 


চার.

বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ের স্হানে ব্যবহারঃ

সাপে কাটা সহ নানান রকম বিষাক্ত পোকামাকড় কামড় দিলে পুরো শরীর ব্যথা ও ফুলে যায়। এমনকি ঐ সকল বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। যদি কোন ব্যাক্তিকে বিষাক্ত পোকামাকড়ে কামড় দেয় তাহলে তাৎক্ষণিক ভাবে হাতিশুঁড়া গাছের পাতা বেঁটে কামড়ের স্হানে লাগালে দারুণ ফলপ্রসূ পাওয়া যায়। 


পাঁচ.

ঠান্ডা-সর্দিতে ব্যবহারঃ অনেক সময় ঠান্ডা জনিত কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে হাত পায়ের গাঁট ফুলে যায়। এক্ষেত্রে এই গাছের পাতার রস হালকা গরম করে গাঁট ফুলানো স্হানে লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও যাদের ঠান্ডার কারণে বুকে কফ জমে যায় তারা পাতা বেঁটে  রস করে কয়েকদিন সেবন করলে শতভাগ ফল পাবেন। 


ছয়.

ফোঁড়া বা বাগীতে ব্যবহারঃ বিভিন্ন সময় আমাদের শরীরের নরম জায়গা গুলোতে ফোঁড়া বা বাগী উঠে থাকে। বিশেষ করে বগলের নিচে দুই উরুর মাঝে ফোঁড়া গুলো বেশি হয়ে থাকে। আর ঐ সময়ে প্রচন্ড ব্যাথা ও ফুলে যায়। এই ব্যাথা থেকে পরিএাণ পেতে হাতিশুঁড়া গাছের পাতা বেঁটে রস লাগিয়ে দিলে খুব তাড়াতাড়ি ব্যাথা কমিয়ে ফোঁড়া সেরে যায়। 


সাত.

এ্যাকজিমায় ব্যবহারঃ অনেকে দীর্ঘ দিন যাবত এ্যাকজিমায় ভুগছেন,, অনেক চিকিৎসা করেও ভাল ফল পাননি। তাহলে আর দেরী না করে হাতিশুঁড়া গাছের পাতার রস সেবন করুন, তাহলে নিজের চোখে এর কার্যকরিতা দেখতে পারবেন। 


উপরোক্ত গুণগুণ ছাড়াও আরো অনেক গুণ আছে হাতিশুঁড়া গাছের। যৌবন শক্তি বাড়ানো বা যৌন চিকিৎসায়ে হাতিশুঁড়া গাছের জুড়ি নেই। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন