ছাত্রী-শিক্ষকের গোপন ভিডিও   

ছাত্রী- শিক্ষকর অনৈতিক কর্মকান্ডের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল ! এমনি এক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ  জেলার রানী নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঘটনাটি শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এই ঘৃণিত ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে।


 বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়- নওগাঁর রানী নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যায়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম পিন্টুর অনৈতিক কর্মকান্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ ও ছাত্র ছাত্রী অভিভাবকদের মাঝে সমালোচনা ও  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানা যায়- গত ১লা মে শনিবার " ইসলাম ইসলাম" নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছাত্রী শিক্ষকের গোপন ঐ ভিডিও টা আপলোড করলে সেটা দ্রুত সময়ে ভাইরাল হয়ে যায়।


 এরপর ঐ এলাকার স্হানীয় এলাকাবাসীগণ ভিডিও টা দেখে পেয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার উঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক সদস্য বলেন - একজন শিক্ষক হয়ে সে কিভাবে এমন নোংরা কাজ করতে পারলেন, তাছাড়া আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে গেলে তাদের কাছে আমানত থাকে।


 এখন তারা যদি এমন ঘৃনিত কাজ করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কোন বিশ্বাসে স্কুলে পাঠাবো। তিনি আরো বলেন - অতি তারাতাড়ি এই কুলাঙ্গার শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম কে চাকুরী থেকে বহিস্কার করা হউক সেইসাথে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান। 


আমাদেরকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী- শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম গত ১২ বছর আগে উপজেলার রানীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর চলতি বছরে তিনি সহকারী শিক্ষক লাইব্রেরিয়ান ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষক পদে উন্নিত হয়েছেন। শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ উপজেলার বেলোবাড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত আসরত আলী মিনা।


 স্হানীয় এলাকাবাসী ও  ছাত্রীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায় অভিযুক্ত শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম দীর্ঘ দিন যাবত একই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে প্রাইভেট পড়াতেন। হয়তোবা প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে মানুষ রুপী জানোয়ার এই কুলাঙ্গার শিক্ষক ছাত্রীদেরকে কৌশলে ও প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে করতেন। 


ফেসবুক ভাইরাল ছাত্রী শিক্ষকের ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ঐ ভিডিও তে দেখা যায় শিক্ষক সাদেকুল ইসলামকে অনৈতিক কর্মকান্ড করতে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য কিছু স্হানীয় নেতারা শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন বলে অনেকের ধারণা। তানাহলে স্হানীয় নেতারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কেন উঠে পড়ে লেগেছে? 


এদিকে রানী নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন - লোকমুখে শোনার পর আমিও ভিডিও টি দেখেছি। এবিষয়ে যদি অভিভাবক লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে বিধি মোতাবেক শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমরা ব্যাবস্হা গ্রহণ করবো। এছাড়াও বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম হোসেন গোল্লা আমাদেরকে গণমাধ্যমকে জানান - আমি বিষয়টি জানি না, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে আপনাদেরকে জানাবো। 


পরে গণমাধ্যম কর্মীরা অভিযুক্ত শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সাদেকুল ইসলামের মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে এ বিষয়ে  সাদেকুল ইসলামের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ছাত্রী শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের ভিডিও নিয়ে রানী নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো মাহাতো গণমাধ্যমকে জানান- বিষয়টি ভালো ভাবে খতিয়ে দেখে তারপর আমরা ব্যাবস্হা গ্রহণ করবো। 


এ বিষয়ে স্হানীয় সুশীল সমাজের ব্যাক্তি বর্গ জানান - এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনায় বিদ্যালয়টিতে ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আর এমন অস্বাভাবিক ঘটনার কারণে বিদ্যালয়টিতেও বেশ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন। সব কিছু মিলিয়ে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ এ বিষয়ে সঠিক ব্যাবস্হা গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন। 


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন